কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা ও রোবোটিকস খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তামার চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়বে। তবে নতুন খনি ও পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) সক্ষমতা না বাড়ানো হলে প্রতি বছর এক কোটি টনের বেশি সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।
এসঅ্যান্ডপি জানায়, বিদ্যুৎ পরিবাহিতার উচ্চ সক্ষমতা, ক্ষয়রোধী বৈশিষ্ট্য ও সহজে আকার দেয়া যায় এমন গুণাবলির কারণে তামা দীর্ঘদিন ধরেই নির্মাণ, পরিবহন, প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
গত এক দশকে বৈদ্যুতিক যান (ইভি) শিল্প তামার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালেও আগামী ১৪ বছরে এআই, প্রতিরক্ষা ও রোবোটিকস খাত ধাতব পণ্যটির চাহিদা আরো ব্যাপক মাত্রায় বাড়াবে। পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রসহ (এয়ার কন্ডিশনার) অন্যান্য তামানির্ভর গৃহস্থালি পণ্যের প্রচলিত চাহিদা বৃদ্ধিও অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী তামার বার্ষিক চাহিদা ছিল ২ কোটি ৮০ লাখ টন, ২০৪০ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪ কোটি ২০ লাখ টনে। তবে নতুন সরবরাহ উৎস যুক্ত না হলে এ চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশই অপূর্ণ থেকে যেতে পারে।
এসঅ্যান্ডপির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ড্যান ইয়েরগিন বলেন, ‘চাহিদা বাড়ার মূল চালিকাশক্তি হলো বিশ্বব্যাপী বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি। এ কাজে অপরিহার্য ধাতু হিসেবেই তামার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।’
রয়টার্সের গত মাসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই খাত এরই মধ্যে তামার বড় ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত বছর বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি নতুন ডাটা সেন্টার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জাপান, জার্মানি ও অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগের কারণেও তামার চাহিদা বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসঅ্যান্ডপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউক্রেনের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্লোস পাস্কুয়াল বলেন, ‘প্রতিরক্ষা খাতে তামার চাহিদা প্রকৃত অর্থেই অস্থিতিস্থাপক (দাম বা অন্য কোনো উপাদান পরিবর্তন হলেও চাহিদা বা সরবরাহে খুব কম পরিবর্তন আসে) ভূমিকা রাখে।
বিশ্বের প্রায় সব ইলেকট্রনিক পণ্যের মধ্যেই তামার ব্যবহার রয়েছে। তামা উৎপাদনে চিলি ও পেরু শীর্ষস্থানীয় দেশ। বৃহত্তম স্মেল্টার হিসেবে চীনের অবস্থান শীর্ষে। যুক্তরাষ্ট্র মোট তামা চাহিদার প্রায় অর্ধেক আমদানি করে এবং এরই মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ধরনের তামার ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। তবে এ প্রতিবেদনে গভীর সমুদ্র থেকে তামা উত্তোলনের সম্ভাব্য সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।